॥ শ্রী হনুমতে নমঃ ॥
হনুমান চালিসা — অর্থ সহ
সম্পূর্ণ পাঠ, প্রতিটি চরণের নিচে সহজ বাংলা অর্থ সহ
দোহা
শ্রী গুরু চরণ সরোজ রাজ, নিজ মনু মুকুর সুধারি,
বরণউ রঘুবর বিমল জসু, জো দায়কু ফল চারি।
বরণউ রঘুবর বিমল জসু, জো দায়কু ফল চারি।
অর্থ
আমার গুরুর চরণকমলের ধুলো দিয়ে আমার মন নামক দর্পণকে পরিষ্কার করে, ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ এই চারটি ফল দানকারী শ্রীরামের নির্মল যশ আমি বর্ণনা করছি।
দোহা
বুদ্ধিহীন তনু জানিকে, সুমিরৌ পবন কুমার,
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মহি, হরহু কলেশ বিকার।
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মহি, হরহু কলেশ বিকার।
অর্থ
নিজের শরীরকে বুদ্ধিহীন জেনে, আমি পবনপুত্র হনুমানকে স্মরণ করছি। হে হনুমান, আমাকে বল, বুদ্ধি ও বিদ্যা দান করুন, এবং আমার সকল ক্লেশ ও বিকার দূর করুন।
চরণ ১ – ১০
1
জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর, জয় কপিস তিহুন লোক উজাগর॥
অর্থজ্ঞান ও গুণের সাগরস্বরূপ হে হনুমান, আপনার জয় হোক। হে কপীশ্বর, তিন লোকেই (স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল) আপনার যশ উজ্জ্বল হয়ে আছে।
2
রাম দূত অতুলিত বল ধাম, অঞ্জনি পুত্র পবনসুত নাম॥
অর্থআপনি শ্রীরামের দূত, অতুলনীয় বলের আধার। আপনি অঞ্জনা মাতার পুত্র, তাই পবনসুত নামেও পরিচিত।
3
মহাবীর বিক্রম বজ্রঙ্গী, কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গী॥
অর্থআপনি মহাবীর, আপনার শরীর বজ্রের মতো কঠোর। আপনি কুমতি দূর করে সুমতির সহায়ক।
4
কঞ্চন বরণ বিরাজ সুবেস, কনন কুন্ডল কুঞ্চিত কেস॥
অর্থআপনার গাত্রবর্ণ স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল, আপনি সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত। আপনার কানে কুন্ডল ও চুল কোঁকড়ানো।
5
হাথ বজ্র অর ধ্বজ বিরাজে, কন্ধে মূঞ্জ জনেউ সজাই॥
অর্থআপনার হাতে বজ্র ও ধ্বজা শোভা পায়, কাঁধে মুঞ্জ ঘাসের তৈরি জনেউ সুন্দরভাবে সজ্জিত।
6
শঙ্কর সুবন কেসরি নন্দন, তেজ প্রতাপ মহা জগবন্দন॥
অর্থআপনি ভগবান শংকরের অংশ, কেশরীর পুত্র। আপনার তেজ ও প্রতাপকে সমগ্র জগৎ বন্দনা করে।
7
বিদ্যাবান গুনী অতি চতুর, রাম কজ করিবে কো আতুর॥
অর্থআপনি বিদ্যাবান, গুণী এবং অতি চতুর। শ্রীরামের কাজ করতে আপনি সদা আগ্রহী।
8
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রাসিয়া, রাম লক্ষণ সীতা মন বাসিয়া॥
অর্থপ্রভু শ্রীরামের চরিত্র শুনতে আপনি অতি রসিক। রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা সর্বদা আপনার মনে বাস করেন।
9
সূক্ষ্ম রূপ ধরি সিয়াহিং দিখাবা, বিকট রূপ ধরি লঙ্কা জরাবা॥
অর্থআপনি সূক্ষ্ম রূপ ধারণ করে সীতা মাতাকে দর্শন দিয়েছিলেন, এবং ভয়ংকর রূপ ধারণ করে লঙ্কা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।
10
ভীম রূপ ধরি অসুর সংহারে, রামচন্দ্র কে কাজ সবারে॥
অর্থআপনি বিশাল রূপ ধারণ করে অসুরদের সংহার করেছিলেন, এবং এভাবে রামচন্দ্রের কাজ সিদ্ধ করেছিলেন।
চরণ ১১ – ২০
11
লায়ে সজীবন লখন জিয়ায়ে, শ্রী রঘুবীর হরশি ঊরলায়ে॥
অর্থআপনি সঞ্জীবনী বুটি এনে লক্ষ্মণের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন, তাতে আনন্দিত হয়ে শ্রীরাম আপনাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।
12
রঘুপতি কিনহি বহুত বড়াই, তুম মম প্রিয় ভরত সম ভাই॥
অর্থরঘুপতি রাম আপনার অনেক প্রশংসা করেছিলেন — আপনি আমার ভরতের মতোই প্রিয় ভাই, একথা বলেছিলেন।
13
সহস বদন তুমহারো জস গাবে, অসা কহি শ্রীপতি কন্ঠ লাবে॥
অর্থসহস্র মুখে (আদিশেষ) আপনার যশ গান করেন — এই বলে শ্রীপতি রাম আপনাকে আলিঙ্গন করলেন।
14
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীস, নারদ সারদ সহিত অহীস॥
অর্থসনক প্রমুখ ঋষি, ব্রহ্মা প্রমুখ মুনীশ্বর, নারদ, সরস্বতী ও শেষনাগ — সকলেই আপনার গুণগান করেন।
15
যম কুবের দিগপাল জহাং তে, কবি কোবিদ কহিং সকই কাহাং তে॥
অর্থযম, কুবের, দিকপালগণ এবং বড় বড় কবি-পণ্ডিতরাও আপনার গুণ সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করতে পারেন না।
16
তুম উপকার সুগ্রীবাহি কীনহ, রাম মিলায় রাজ পদ দীনহ॥
অর্থআপনি সুগ্রীবের উপর মহা উপকার করেছিলেন — রামের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে তাকে রাজপদ পুনরায় প্রাপ্ত করিয়েছিলেন।
17
তুমহরো মন্ত্র বিভীষণ মানা, লঙ্কেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা॥
অর্থআপনার পরামর্শ মেনে বিভীষণ লঙ্কার রাজা হয়েছিলেন — এই কথা সমগ্র জগৎ জানে।
18
জুগ সহস্র জোজন পর ভানু, লিলয়ো তাহি মধুর ফল জানু॥
অর্থহাজার যোজন দূরের সূর্যকে আপনি মিষ্টি ফল ভেবে গ্রাস করেছিলেন — এটাই আপনার অলৌকিক শক্তি।
19
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহি, জলধি লাঙ্ঘি গএ অচরজ নাহি॥
অর্থপ্রভু রামের অঙ্গুরীয় মুখে নিয়ে আপনি সমুদ্র পার হয়েছিলেন — এটি আপনার জন্য বিস্ময়ের কিছু নয়।
20
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে, সুগম অনুগ্রহ তোমারে তেতে॥
অর্থপৃথিবীতে যত কঠিন কাজ আছে, সেসব আপনার কৃপায় সহজ হয়ে যায়।
চরণ ২১ – ৩০
21
রাম দ্বারে তুম রখবারে, হোত না আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥
অর্থআপনি শ্রীরামের দ্বারের রক্ষক। আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না।
22
সব সুখ লাহৈ তুমহারি সরণা, তুম রক্ষক কাহু কো ডারণা॥
অর্থযে আপনার শরণ নেয়, সে সকল সুখ লাভ করে। আপনি রক্ষক থাকলে কোনো ভয় নেই।
23
আপন তেজ সংহারো আপই, তীনো লোক হাংক তে কাপই॥
অর্থআপনার তেজ আপনিই ধারণ করতে পারেন। আপনার একটি গর্জনেই তিন লোক কেঁপে ওঠে।
24
ভূত পিশাচ নিকট নাহি আবায়, মহাবীর জব নাম সুনায়॥
অর্থমহাবীর হনুমানের নাম উচ্চারণ করলেই ভূত-পিশাচ কাছে আসতে পারে না।
25
নাসেই রোগ হরে সব পীরা, জপৎ নিরঞ্জন হনুমত বীরা॥
অর্থহে বীর হনুমান, যে নিরন্তর আপনার নাম জপ করে, তার সকল রোগ ও যন্ত্রণা দূর হয়।
26
সঙ্কট তে হনুমান চুড়াবৈ, মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥
অর্থমন, বচন ও কর্ম দিয়ে যে আপনাকে ধ্যান করে, হনুমান তাকে সকল সংকট থেকে মুক্তি দেন।
27
সব পর রাম তপসবী রাজা, তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥
অর্থতপস্বী রাজা শ্রীরাম সকলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং তাঁর সকল কাজ আপনিই সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।
28
ঔর মনোরথ জো কোঈ লাবৈ, সই অমিত জীবন ফল পাবৈ॥
অর্থযে নিজের ইচ্ছা নিয়ে আপনার কাছে আসে, সে জীবনে অসীম ফল লাভ করে।
29
চরো যুগ পরতাপ তুমহারা, হয় পরসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥
অর্থচার যুগেই আপনার প্রতাপ বিস্তৃত, এবং তা সমগ্র জগতে প্রসিদ্ধ ও উজ্জ্বল।
30
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে, অসুর নিকন্দন রাম দুলারে॥
অর্থআপনি সাধু-সন্তদের রক্ষক, অসুরদের বিনাশক, এবং শ্রীরামের অতি প্রিয়।
চরণ ৩১ – ৪০
31
অষ্ট সিদ্ধি নউ নিধি কে দাতা, অসা বর দীন জনকী মাতা॥
অর্থজনকী মাতা (সীতা) আপনাকে আট সিদ্ধি ও নয় নিধি দান করার বর দিয়েছেন।
32
রাম রসায়ন তুমহারে পাসা, সদা রহো রাঘুপতি কে দাসা॥
অর্থরাম-ভক্তিরূপী অমৃত সদা আপনার কাছে আছে, এবং আপনি সদা রঘুপতির দাস হয়েই থাকেন।
33
তুমহারে ভজন রাম কো পাবৈ, জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥
অর্থআপনার ভজনের মাধ্যমে মানুষ রামকে লাভ করে, এবং জন্ম জন্মের দুঃখ ভুলে যায়।
34
অন্ত কাল রঘুবর পুর জাই, জহাং জনম হরিভকত কহাই॥
অর্থঅন্তিম সময়ে সে রঘুবরের পরম ধামে যায়, এবং পরবর্তী জন্মে হরিভক্ত বলে পরিচিত হয়।
35
ঔর দেবতা চিত্ত না ধরাই, হনুমত সেই সর্ব সুখ করাই॥
অর্থএমন ভক্তের মনে অন্য কোনো দেবতার চিন্তা থাকে না, কারণ হনুমানের সেবাতেই সে সকল সুখ লাভ করে।
36
সঙ্কট কটে মিটে সব পীরা, জো সুমিরে হনুমত বলবীরা॥
অর্থবলবীর হনুমানকে যে স্মরণ করে, তার সংকট কেটে যায় এবং সকল যন্ত্রণা লাঘব হয়।
37
জয় জয় জয় হনুমান গুসাঈং, ক্রিপা করহু গুরুদেব কী নাঈ॥
অর্থহে হনুমান প্রভু, আপনার জয়, জয়, জয়। গুরুদেবের মতোই আমার উপর কৃপা করুন।
38
জো সত বার পাঠ কর কোঈ, ছুটহী বন্দী মহা সুখ হোঈ॥
অর্থযে এই চালিসা একশ বার পাঠ করে, সে সকল বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মহাসুখ লাভ করে।
39
জো ইয়াহ পড়হে হনুমান চালীসা, হয় সিদ্ধি সাখী গৌরীসা॥
অর্থযে এই হনুমান চালিসা পাঠ করে, সে সিদ্ধি লাভ করে — এর সাক্ষী স্বয়ং ভগবান শিব (গৌরীশ)।
40
তুলসী দাস সদা হরি চেরা, কীজয় নাথ হৃদয় মহি দেরা॥
অর্থতুলসীদাস বলেন — আমি সদা হরির দাস। হে নাথ, আপনি সদা আমার হৃদয়ে বাস করুন।
সমাপনী দোহা
পবন তনয় সঙ্কট হরণ, মঙ্গল মূরতি রূপ,
রাম লক্ষণ সীতা সহিত, হৃদয় বসহু সুর ভূপ॥
রাম লক্ষণ সীতা সহিত, হৃদয় বসহু সুর ভূপ॥
অর্থ
হে পবনতনয়, সংকট হরণকারী, মঙ্গলমূর্তি হনুমান — রাম, লক্ষ্মণ, সীতার সাথে সদা আমার হৃদয়ে বাস করুন, হে দেবতাদের রাজা।